ঢাবিতে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষা চালু থাকছে: ভূমিকম্প, হল-সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের চাপের প্রেক্ষাপটে নতুন সিদ্ধান্ত

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় সব হল ও ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি বাড়ানো হবে। এর ফলে একদিকে একাডেমিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হলেও, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়।

২৮ ডিসেম্বর থেকে হল ও ক্লাস চালু

ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতকালীন ছুটি শেষে ২৮ ডিসেম্বর থেকে আবাসিক হল পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ক্লাস চলবে আগের নিয়মে। তবে এর পরের দিনই অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন—পরীক্ষা অনির্দিষ্টভাবে বন্ধ থাকলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার আরও পিছিয়ে যাবে, চাকরির আবেদন ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অভিভাবক ও বৃহৎ অংশের শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।

পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত

বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, চলমান অনার্স চতুর্থ বর্ষ/অষ্টম সেমিস্টার এবং মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—

  • সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের মতামতের ভিত্তিতে

  • পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে

  • বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির অনুমোদনক্রমে

  • সব পরীক্ষার্থীর সম্মতি নিয়ে

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ডাকসুর অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সেশন আর বেশি পিছিয়ে না যায়।

হলে অবস্থান করতে চাইলে আবেদন প্রয়োজন

পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে হলে অবস্থান করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্টভাবে হল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। কারণ—

  • অধিকাংশ আবাসিক হলে বর্তমানে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে

  • নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু হল আংশিকভাবে বদ্ধ বা সীমিত

হল প্রশাসন বলেছে, পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত না করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

সংস্কারকাজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে

ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং উইং বিভিন্ন হলের দুর্বল অংশ, ফাটল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা শনাক্ত করে। ফলে সংস্কারকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • শিক্ষার্থীদের চলাচলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে

  • সংস্কার কাজে কর্মরতদের সহযোগিতা করা জরুরি

  • ডাকসু ও হল সংসদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য

পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ভূমিকম্প পরিস্থিতি নতুন চাপ তৈরি করে। তবে পরীক্ষাসূচি চালু রেখে শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত, তবে হল সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের আবাসন–সংকট দ্রুত সমাধান না হলে নতুন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।