ঢাকা সাত কলেজে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

ঢাকার সাতটি প্রখ্যাত সরকারি কলেজকে একত্রিত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং গবেষণাসমৃদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টিই মূল লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, এসব কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে, তারা ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রমও চলবে।

সংযুক্ত কলেজসমূহের তালিকা:

ক্র. নংকলেজের নামপ্রাক্তন অধিভুক্তিবিশেষ উল্লেখ
ঢাকা কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পুরুষ শিক্ষার্থীদের কলেজ
ইডেন মহিলা কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহমেলিত শিক্ষার্থীদের কলেজ
কবি নজরুল সরকারি কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়চারুকলা ও সাধারণ শিক্ষা
সরকারি বাঙলা কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সাধারণ শিক্ষার্থীদের কলেজ
সরকারি তিতুমীর কলেজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা কার্যক্রম

প্রেস উইং-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো সংরক্ষিত থাকবে। রাষ্ট্রপতি আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলা সহ পৃথক ‘স্কুল’ থাকবে। প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্ব দেবেন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন অভিন্ন সময়সূচি ও কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হতে পারবেন।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, শিক্ষক উন্নয়ন, আবাসিক হল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগও নিশ্চিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মনে করছে, নতুন অধ্যাদেশ সাত কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করবে এবং রাজধানীতে আধুনিক, গবেষণাসমৃদ্ধ ও সমন্বিত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

২০১৭ সালে এই সাত কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার সময় যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই নতুন অধ্যাদেশ শিক্ষাব্যবস্থা স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।