ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট অভূতপূর্বভাবে ফাঁকা হয়ে পড়লেও, বায়ুর মানে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। সাধারণ দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ প্রায় শূন্য এবং যানজট নেই, তবু রোববার সকালেও শহরের বায়ু অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকার বায়ু মান সূচক (AQI) ১৬৫, যা “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বায়ুদূষণের দিক থেকে শীর্ষ কিছু শহরের অবস্থান নিম্নরূপ:
| অবস্থান | শহর | দেশ | বায়ু মান সূচক (AQI) | শ্রেণি |
|---|---|---|---|---|
| ১ | দিল্লি | ভারত | ১৯৩ | অস্বাস্থ্যকর |
| ২ | বেইজিং | চীন | ১৭৮ | অস্বাস্থ্যকর |
| ৩ | ইনচিওন | দক্ষিণ কোরিয়া | ১৭৪ | অস্বাস্থ্যকর |
| ৪ | ঢাকা | বাংলাদেশ | ১৬৫ | অস্বাস্থ্যকর |
| ৫ | মুম্বাই | ভারত | ১৫৮ | অস্বাস্থ্যকর |
AQI মানের শ্রেণীবিভাগ:
- ০–৫০: ভালো
- ৫১–১০০: মাঝারি / সহনীয়
- ১০১–১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
- ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর
- ২০১–৩০০: খুবই অস্বাস্থ্যকর
- ৩০১-এর বেশি: দুর্যোগপূর্ণ
তুলনামূলকভাবে, বিশ্বের স্বাস্থ্যকর বায়ুর তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো রয়েছে। যেমন, ডেনভার শহরের AQI ৩৯ এবং শিকাগোর AQI ৪২, যা “ভালো” মানের বায়ু নির্দেশ করছে।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধুলা, শিল্পকলার নির্গমন এবং আবহাওয়ার অনুকূলতা। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের সংখ্যা কমলেও, ধুলাবালু এবং অন্যান্য দূষক এখনো বায়ুর মানকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টসহ রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ফাঁকা সড়ক থাকলেও মাস্ক ব্যবহার ও দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া গাছ লাগানো, যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকলার নির্গমন কমানো গেলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি হ্রাস করা সম্ভব।
মোট কথা, ঈদের দিনে ঢাকায় যানজট কমলেও বায়ুর মানে কোনো স্বস্তি নেই। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা এখন অপরিহার্য।
