ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১০ জন

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় এই অনভিপ্রেত সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামি ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রথমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে ছাত্রদলের ৪ জন এবং শিবিরের ৬ জন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিচে সংঘর্ষের প্রাথমিক বিবরণ ও হতাহতের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
ঘটনাস্থলঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকা।
সংঘর্ষের সময়মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, রাত ০১:০০ ঘটিকা।
জড়িত পক্ষসমূহজাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির।
আহতের সংখ্যামোট ১০ জন (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী)।
আঘাতের ধরনদেশীয় অস্ত্রের আঘাত ও ইটপাটকেলের জখম।
বর্তমান পরিস্থিতিঅতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, থমথমে অবস্থা।

প্রশাসনিক ও পুলিশের ভূমিকা

খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে সংঘর্ষে জড়িতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছাত্রাবাসের ভেতরে অবস্থান নেয়। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জানান, গভীর রাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার তদন্তে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তেজনা

বুধবার সকালেও ক্যাম্পাসে এক ধরণের থমথমে ভাব বিরাজ করছে। উভয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্যাম্পাসের আশেপাশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রাবাসগুলোতে তল্লাশি চালানোরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়ভাবে কম দেখা যাচ্ছে।