ঢাকার সড়কে থেমে গেল শিক্ষার্থীদের সেবা

রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কার্যক্রম অর্থসংকটের কারণে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে প্রায় আট শতাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী একযোগে আয়ের উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। একই সঙ্গে নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

উদ্যোগের সূচনা ও উদ্দেশ্য

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট ও সীমিত জনবলের চাপে ট্রাফিক পুলিশের কাজ সহজ করতে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পসময়ের একটি আয়ের সুযোগ তৈরি করাও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যস্ত মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁরা যানবাহনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ, অনিয়মিত পার্কিং প্রতিরোধ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন।

হঠাৎ বন্ধে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে শিক্ষার্থীদের জীবনে। অনেকেই এই কাজের ওপর নির্ভর করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ বহন করতেন। হঠাৎ করে এই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বেড়েছে।

একজন শিক্ষার্থী জানান, এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত উপার্জন করতে পারতেন, যা তাঁর শিক্ষাজীবনে সহায়ক ছিল। এখন নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়ায় তাঁরা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ পাননি।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান প্রভাব

শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রেলক্রসিং, বাজারসংলগ্ন এলাকা এবং সংকীর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, শিক্ষার্থীরা আগে দ্রুতগতিতে যানজট নিরসনে কাজ করতেন। তাঁদের উপস্থিতি সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ছিল। এখন সেই সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।

নিচের সারণিতে কার্যক্রম বন্ধের আগে ও পরের পরিস্থিতির তুলনা তুলে ধরা হলো—

সূচককার্যক্রম চালু থাকাকালীনকার্যক্রম বন্ধের পর
যানবাহন নিয়ন্ত্রণসমন্বিত ও কার্যকরদুর্বল ও বিশৃঙ্খল
যানজট পরিস্থিতিসহনীয়বৃদ্ধি পেয়েছে
শিক্ষার্থীদের আয়নিয়মিতসম্পূর্ণ বন্ধ
পথচারী নিরাপত্তাতুলনামূলকভাবে নিশ্চিতঝুঁকি বেড়েছে

কর্তৃপক্ষের অবস্থান

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থের ঘাটতির কারণেই আপাতত এই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে পুনরায় কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল। তাই জনস্বার্থে এই উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সার্বিকভাবে বলা যায়, একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগের হঠাৎ স্থগিতাদেশ শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো নগরবাসীর জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।