মিরপুর টাইগার্স মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগের প্রথমদিনের ব্যাটিং ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত, ধৈর্যশীল এবং পরিকল্পিত। দিনের শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছিল দৃঢ়তা। ওপেনিং জুটিতে আশিকুর রহমান ও আরিফুল ইসলাম সাবলীল ব্যাটিং শুরু করলেও হঠাৎই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় আশিকুরকে। সেই আঘাতই ৭২ রানে থামিয়ে দেয় সম্ভাবনাময় ওপেনিং জুটিকে। এরপর দ্রুত ফিরে যান দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার—ফয়সাল আহমেদ (৯) এবং জিসান আলম (২২)। দুইজনই উইকেটে সেট হতে না পারায় ঢাকার ইনিংস কিছুটা চাপে পড়ে।
কিন্তু সেই চাপ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ উইকেটে ছিলেন দুই তরুণ—আনিসুল ইসলাম ও মার্শাল আয়ুব। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ধীরে ধীরে ঢাকার ইনিংসকে শুধু সামলে তোলেই নয়, বরং রানের গতিও বাড়িয়ে তোলে। আনিসুল তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন দারুণ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে, পরে ইনিংস বড় করতে থাকেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে। ১৮ চার ও ৫ ছক্কায় ১৮৩ রানে অপরাজিত থাকা তার ইনিংসটি দিনশেষে চট্টগ্রামের বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
অন্য প্রান্তে মার্শালও ছিলেন সমান সাবলীল। ১৩২ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত তিনি দলকে আরও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে রেখেছেন। দুজনের জুটিতে এসেছে অপরাজিত ২৮৪ রান—যা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবে ঢাকা বিভাগ; স্পষ্ট লক্ষ্য—৪৫০ বা ৫০০ রানের বিশাল সংগ্রহ।
অন্যদিকে বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে খুলনা দিনটি শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৩০২ রানে, যদিও ব্যাটসম্যানরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সৌম্য সরকারের ঝলমলে ৫৬ ও জিয়াউর রহমানের ৩৬ রানই ছিল উল্লেখযোগ্য। রংপুরের হয়ে নাসির হোসেন নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট, যেগুলো না হলে খুলনা আরও এগিয়ে যেতে পারত।
রাজশাহীতে বরিশালের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে সিলেট বিভাগ শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে শেষ বিকেলে ম্যাচে ফিরে আসে। বরিশাল ভালো শুরু করলেও ১৮৮/৩ থেকে মুহূর্তেই পড়ে যায় চাপে। শেষ বিকেলে সিলেট তুলে নেয় ৬ উইকেট। মহিউদ্দিন তারেকের ৩ উইকেট ও আবু জায়েদ রাহীর ২ উইকেট দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
এদিকে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা ময়মনসিংহও দেখিয়েছে শক্তি। তারা রাজশাহীকে মাত্র ২১৯ রানে অলআউট করে দিনশেষে ২ উইকেটে ৭৩ রান তোলে। আবু হায়দার রনির ৩ উইকেট, আসাদুল্লাহ গালিব ও রাকিবুলের ২টি করে উইকেট—সবমিলিয়ে ময়মনসিংহ এগিয়ে আছে ম্যাচে।
ঢাকার ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই আনিসুলের ১৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। আগামীকাল তিনি যদি একই ধারায় খেলে যান, তবে ডাবল সেঞ্চুরি শুধু সম্ভাবনা নয়—বাস্তবও হতে পারে। আর এমন এক ইনিংস তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
