ঢাকার মহাসড়কে আট ঘণ্টার ভয়াবহ যানজট

ঢাকা এবং দেশের প্রধান মহাসড়কগুলো বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জ্যামময় পরিস্থিতির কবলে পড়ে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই যানজট রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়কগুলোতে ধীরগতি সৃষ্টি করে। বিশেষত ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ের কিছু অংশে গাড়ি প্রায় স্থির হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, বাস, পিকআপ এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দুই দিকেই কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত। ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে, সোনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত দক্ষিণমুখী যানজট প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল, যখন উত্তরে ঢাকা অভিমুখী যানবাহন মদনপুর থেকে কাঞ্চপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জ্যামে আটকা পড়েছিল। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থাকায় কিছু মানুষ বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে যাত্রা চালিয়েছে।

যাত্রীরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও চাপপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। ঢাকা যাওয়া যাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, “আমি মেঘনা শিল্পাঞ্চলে অফিসে যাচ্ছিলাম, এবং একই স্থানে দুই ঘণ্টার বেশি আটকা পড়েছিলাম। রোদ এবং ধোঁয়া চলাচলকে অসম্ভব করে তুলেছিল।” ট্রাক চালক শাহ আলম বলেন, “এশিয়ান হাইওয়ের কিছু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যানবাহনকে ধীর করে দেয়, যা দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছে।”

পরিবার এবং অফিস কর্মীদের উপর প্রভাব বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। চট্টগ্রাম যাওয়া যাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, “শিশুর সঙ্গে দীর্ঘ সময় যানবাহনে থাকা খুব চাপের।” বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ মাহমুদ যোগ করেন, “দীর্ঘ স্থিরতার কারণে জরুরি অফিস কাজ শেষ করা যায়নি।”

দিনের যানজটের সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

পরামিতিস্বাভাবিক অবস্থায়১৮ ফেব্রুয়ারির যানজট
কাঞ্চপুর–মদনপুর ভ্রমণ সময়৩০–৪০ মিনিট৩–৪ ঘণ্টা
দক্ষিণমুখী যানজট (ঢাকা–চট্টগ্রাম)সামান্য~২০ কিমি
উত্তরের যানজট (চট্টগ্রাম–ঢাকা)সামান্য~৫ কিমি
স্থিরতার সময়কালপ্রযোজ্য নয়৮ ঘণ্টা (৬ টা–২ টা)

কাঞ্চপুর হাইওয়ে পুলিশ ট্রাফিক ইন-চার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা জানান, নির্বাচনের ছুটির পর শিল্প কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাক ও মালবাহী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “মদনপুর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং ভারী যানবাহনের চাপের কারণে এই দীর্ঘ জ্যাম তৈরি হয়েছে।”

প্রশাসন অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ না করা হলে, বিশেষ করে শিল্পকেন্দ্র ও ছুটির সময়কালে, এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী যানজট পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।