ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার এলিগ্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক রমজান আলীর (৩১) বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালত অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে, গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) এই পাশবিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরে পুলিশ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলীকে তার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলী এলিগ্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও ওই শিশুটিকে তার বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। গত ২৬ নভেম্বর শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তার মা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর শিশুটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে, এর দু’দিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে এলিগ্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার জাহিদ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের স্কুলের একজন শিক্ষক এমন জঘন্য ও নৈতিকতাবিরোধী কাজ করতে পারেন না। আমার বিশ্বাস, স্কুলের সুনাম এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কোনো একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের মিথ্যা অপচেষ্টা করছে।” প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্যটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে যেহেতু রমজান আলীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে, সে কারণে আমরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করেছি। অভিযুক্তকে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আমরা আদালতে প্রেরণ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম। তবে আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, একদিনের রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্তকে নিবিড়ভাবে এবং কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে শিশুটির ওপর এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিবরণ, নেপথ্যের কারণ এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা দ্রুত উদঘাটন করা যায়। শিক্ষকতার মতো একটি সম্মানিত পেশায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এই নির্মম অপরাধের জন্য অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুততম শাস্তি দাবি করেছে।
বর্তমানে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিমান্ডের সময়কাল শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।