ঢাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলায় কঠোর ডিএমপি অভিযান

রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একদিনে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও যানজটপ্রবণ এলাকাজুড়ে পরিচালিত অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৪০৬টি মামলা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ পার্কিং, নির্ধারিত লেন অমান্য, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল, যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো বিভিন্ন অপরাধে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে যানজট কমানো, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস এবং পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামলার সংখ্যার দিক থেকে মতিঝিল ও মিরপুর বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। মতিঝিল বিভাগে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে মোট ৮৫টি মামলা করা হয়। বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে ভারী যানবাহন ও গণপরিবহনের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় আইন লঙ্ঘনের সংখ্যাও বেশি দেখা গেছে। অপরদিকে, মিরপুর বিভাগে মোট ৭৪টি মামলা হয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুতগামী দুই চাকার যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নিচের সারণিতে ট্রাফিক বিভাগভিত্তিক মামলার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

ট্রাফিক বিভাগবাসট্রাককাভার্ডভ্যানসিএনজিমোটরসাইকেলমোট মামলা
রমনা১৬৪৭
লালবাগ২৫৩৬
মতিঝিল১১৫২৮৫
ওয়ারী৪০৫৪
তেজগাঁও২৫
মিরপুর৪২৭৪
উত্তরা১৫৪৬
গুলশান৩৯
মোট৪০৬

অভিযানকালে শুধু মামলা করেই থেমে থাকেনি ট্রাফিক বিভাগ। সড়কে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় এবং অবৈধভাবে পার্কিং করার কারণে মোট ১৮৫টি যানবাহন ডাম্পিং করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ১০১টি যানবাহন রেকারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। ডিএমপি সূত্র জানায়, এসব পদক্ষেপের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং যানজট কমেছে।

ডিএমপি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করা এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তারা নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, আইন মেনে চলার মাধ্যমে নিজের ও অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার জন্য। ডিএমপি আরও জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকায় শৃঙ্খলিত ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।