ঢাকার সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এই বছরটি খুবই হতাশাজনক প্রমাণিত হচ্ছে। চলতি বছর শহরে একের পর এক কনসার্ট শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে শিল্পী এবং দর্শক উভয়েই হতাশা ও অসন্তোষে ভুগছেন। সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলামের কনসার্ট। কিন্তু অনুষ্ঠানটি হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের ঢেউ তৈরি হয়েছে। ব্যাপক প্রচার এবং টিকিট বিক্রির পরও আয়োজকরা প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যার ফলে অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়নি। আতিফ আসলাম নিজেও ফেসবুকে এ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের সদস্য হামিন আহমেদ এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সরলভাবে বলেছেন, “প্রথমে সব অনুমতি নিয়ে নিন, তারপর কনসার্ট প্রচার করুন এবং টিকিট বিক্রি করুন—এটাই তো সহজ! মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, অজুহাত তৈরি করে এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের হতাশ করে কেউ যেন জীবন্ত সঙ্গীতের পরিবেশ নষ্ট না করে।”
হামিন আরও বলেন, চলতি বছরে ঢাকায় একাধিক কনসার্ট অনুমোদন ছাড়া প্রচার ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। এতে শিল্পী, ভক্ত এবং আয়োজক সবাই ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, “কোনও অনুষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া প্রচার করা ভক্তদের অভিজ্ঞতা নষ্ট করে এবং শিল্পীর সুনামহানি ঘটায়। সরকারি নিয়ম-কানুন এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চললে জনপ্রিয় কনসার্ট সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।”
হামিনের সমালোচনা কেবল আয়োজকদের উপর সীমাবদ্ধ হয়নি; তিনি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকেও লক্ষ্য করেছেন। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনও রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সঙ্গীতকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রতিটি বিষয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা হচ্ছে, তবে সঙ্গীত কেন নয়?” হামিনের পোস্ট ও মন্তব্যে তিনি জনগণের জবাবদিহিতা এবং নির্বাচনী প্রভাবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সংক্ষেপে, অনুমতি ও পরিকল্পনার অভাবে শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বাতিল হওয়া শিল্পী ও দর্শক উভয়ের জন্যই হতাশাজনক। হামিন আহমেদের সরল ও কঠোর সমালোচনা আয়োজক, শিল্পী এবং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক বার্তা দিচ্ছে: ভালো পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সাংস্কৃতিক অগ্রাধিকারে সক্রিয় মনোযোগ ছাড়া ঢাকায় সফল ও আনন্দদায়ক লাইভ কনসার্ট আয়োজন সম্ভব নয়।