ডেমোক্রেসির পরিবর্তে চলছে আওয়ামীক্রেসি: জি এম কাদের

ডেমোক্রেসির পরিবর্তে চলছে আওয়ামীক্রেসি: জি এম কাদের । জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের লোক বসানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হচ্ছে সরকারি দলের দুর্নীতিবাজদের সার্টিফিকেট দেওয়া যে; তারা কোনো দুর্নীতি করেননি। 

ডেমোক্রেসির পরিবর্তে চলছে আওয়ামীক্রেসি: জি এম কাদের

শুক্রবার বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, সকল জায়গায় বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে, এটাই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। ফলে গরীব আরো গরীব হচ্ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে লুটপাট চলছে। দেশের মানুষের খোঁজ রাখা হচ্ছে না। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষে হতে পারে কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি নয়। 

জি এম কাদের বলেন, এরশাদ সাহেবের দেশ পরিচালনার সময়কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১০ নভেম্বর ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সামরিক আইন জারির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন সঙ্গত ভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন। প্রথম ভাগকে আদালত অবৈধ বলেছে, কারণ সংবিধানসম্মতভাবে হয়নি। কিন্তু যদি জনগণের কল্যাণে কাজ হয়ে থাকে তাকে অবশ্যই বৈধ বলা যায়। 

তিনি বলেন, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিলো। ১৯৯৬ সালে আবার বিএনপির বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিলো আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আরেকটি আন্দোলন এখন চলছে।

জি এম কাদের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন করতে হবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে, আমরাও চাই। নির্বাচিত সরকার যদি নির্বাচন কমিশনসহ সকল কিছু প্রভাবিত করতে পারে তাকে সমর্থন করা যায় না। সংবিধানে বলা হয়েছে গণতন্ত্রের কথা। জনগণ যদি মনে করে আমার ভোটে সরকার গঠন হয়েছে, তাকেই বলা যায় নির্বাচিত সরকার। নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবের বাইরে থাকে।

Leave a Comment