দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)-এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে সোমবার এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে বিএফআইইউর শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তটি অর্থ পাচার রোধ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডেপুটি গভর্নর’ পদমর্যাদায় এই সংস্থাটির নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর এই নিয়োগের পেছনে নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে, যা দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে সংস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
নিয়োগের শর্ত ও কারিগরি তথ্য নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
বিএফআইইউ প্রধান পদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাবলি
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিযুক্ত ব্যক্তি | ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন |
| পূর্বতন কর্মস্থল | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কর কমিশনার হিসেবে) |
| নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ | আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় |
| পদের মেয়াদ | যোগদানের তারিখ হতে পরবর্তী ২ বছর |
| পদমর্যাদা | বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সমমান |
| আইনি রেফারেন্স | মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৪ (১) (ঘ) |
| নিয়োগের শর্ত | অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ বাধ্যতামূলক |
কার্যকাল ও দায়িত্বের ধরণ
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনকে প্রাথমিকভাবে দুই বছর মেয়াদের জন্য এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের প্রধান শর্ত অনুযায়ী, বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো প্রকার পেশাগত সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। এটি একটি সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক পদ, যেখানে মূলত সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
বিএফআইইউ এবং ইখতিয়ার উদ্দিনের অভিজ্ঞতা
বিএফআইইউ মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সায়ত্বশাসিত অঙ্গ হিসেবে কাজ করে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অর্থ পাচার বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন যেহেতু দীর্ঘ সময় রাজস্ব প্রশাসনের কর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই কর ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ শনাক্তকরণে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ে বিদেশে অর্থ পাচার রোধ এবং পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিএফআইইউর কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধে এই সংস্থাটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। নতুন প্রধান কর্মকর্তার নেতৃত্বে সংস্থাটি আরও প্রযুক্তি-বান্ধব ও কঠোর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
