সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৯১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়া ৯১২ রোগীর মধ্যে বিভাগের ভিত্তিতে সংখ্যা নিম্নরূপ:
| বিভাগ | ভর্তি রোগীর সংখ্যা |
|---|---|
| বরিশাল | ১৩৮ |
| চট্টগ্রাম | ১৫১ |
| ঢাকা (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) | ১৩০ |
| ঢাকা উত্তর সিটি | ১৯৪ |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি | ১৩১ |
| খুলনা (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) | ৭২ |
| রাজশাহী (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) | ৮৮ |
| রংপুর (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) | ৩ |
| সিলেট (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) | ৫ |
গত একদিনে দেশে ৯২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৭৬,৯৩৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সেরে বাড়ি ফিরেছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮০,৬৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩১৮ জনের।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এই বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্যাঁচামারি বেড়ে যাওয়ার কারণে সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।
বিগত বছরের ডেটা নিম্নরূপ:
| বছর | হাসপাতালে ভর্তি | মৃত্যুর সংখ্যা |
|---|---|---|
| ২০২৪ (১ জানুয়ারি-বর্তমান) | ৮০,৬৩৪ | ৩১৮ |
| ২০২৪ (১ জানুয়ারি-৩১ ডিসেম্বর, প্রাক অনুমান) | ১,০১,২১৪ | ৫৭৫ |
| ২০২৩ (১ জানুয়ারি-৩১ ডিসেম্বর) | ৩,২১,১৭৯ | ১,৭০৫ |
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানির জমে থাকা নিয়ন্ত্রণ এবং মশার প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাক্তার ও নার্সদের উপর কাজের বোঝা বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত মেডিকেল সাপোর্ট এবং জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে যেন বাড়িতে ও আশপাশে মশার প্রজনন বন্ধ করা যায় এবং রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
