আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক হামলার পর ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার গলে শহর থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৭৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থানরত এই ফ্রিগেট জাহাজ স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিপদসংকেত পাঠায়।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুধিকা সম্পথ জানান, জাহাজের নথি অনুযায়ী এতে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ও মৃতের সংখ্যা অনুযায়ী নিখোঁজদের সংখ্যা এখনও অনিশ্চিত।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ পার্লামেন্টে জানান, বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জাহাজ ও বিমান ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেখানে জাহাজটি ডুবেছে সেখানে অন্য কোনো জাহাজ বা উড়োজাহাজ দেখা যায়নি।
কলম্বোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, জীবিত নাবিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দুইজন কর্মকর্তা গলে পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজের দিকে টর্পেডো নিক্ষেপ করে জাহাজটি ডুবিয়েছে। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হলো।”
উদ্ধারকৃত ও মৃতের তথ্য (প্রাথমিক)
| অবস্থা | সংখ্যা |
|---|---|
| মৃত | ৮৭ |
| জীবিত উদ্ধার | ৩২ |
| মোট আরোহী | ১৮০ |
| নিখোঁজ | আনুমানিক ৬১ |
উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় নিখোঁজদের অবস্থার সঠিক তথ্য জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা অব্যাহতভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
