এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এএসিসি) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে আসন্ন যুব এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি, গ্রুপিং এবং ম্যাচভেন্যু। ডিসেম্বরেই শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, আর দর্শকদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। এবারের আসরে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ ‘বি’-তে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে আফগানিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের গ্রুপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদিও কাগজে-কলমে তুলনামূলক সহজ মনে হতে পারে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নেপাল ও আফগানিস্তানকে অনেকে শক্তি কম মনে করেন, কিন্তু বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তারা নিয়মিতই চমক দেখায়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তাই গ্রুপের শেষ ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার জন্য চূড়ান্ত লড়াই।
বাংলাদেশ দলের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের সূচি নিম্নরূপ:
১. ১৩ ডিসেম্বর — বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান
২. ১৫ ডিসেম্বর — বাংলাদেশ বনাম নেপাল
৩. ১৭ ডিসেম্বর — বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করলে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি মধ্যবর্তী ধাপে দলের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে শেষ ম্যাচ গ্রুপের চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং ঠিক করার লড়াই হিসেবে গুরুত্ব বহন করবে। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে গালফ সময় রাত ৯টায়, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গভীর রাতের খেলা হিসেবে হবে।
গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। উদ্বোধনী দিনে ভারত খেলবে ইউএই’র বিপক্ষে। তবে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ হবে ১৪ ডিসেম্বরের ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ, যা আয়োজকদের নজরদারির অন্যতম বিষয়।
গ্রুপপর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। উভয় সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ ডিসেম্বর আইসিসি একাডেমি মাঠে।
টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব অপরিসীম। যুব এশিয়া কাপ তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম সেরা সুযোগ। এখান থেকেই উঠে আসে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা। তাই প্রতিটি দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, তরুণ টাইগাররা এবার বড় কোনো সাফল্য উপহার দেবে।
বিশেষত বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৩ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট অঙ্গনে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের খেলোয়াড়দের মান যাচাই করার পাশাপাশি দলের কৌশলগত প্রস্তুতিও নিশ্চিত করতে হবে। তিনটি গ্রুপ ম্যাচই হতে পারে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই।
যুব এশিয়া কাপ কেবল ম্যাচের উত্তেজনা নয়, বরং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষা। বাংলাদেশের দল যদি প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করতে পারে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা জোরদার করবে। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিপক্ষরা সবসময়ই চমক দেখাতে পারে।
সর্বশেষ, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে। যারা ভালো খেলবে, তারা ভবিষ্যতের জাতীয় দলের অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাই এবারের যুব এশিয়া কাপ শুধু খেলা নয়, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
