বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে এক প্রকৌশলীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায়কৃত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করেছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অপহরণের বিবরণ
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব (৫৫) বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। গত সোমবার দুপুরে তিনি পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ড্রেন পরিদর্শন শেষে মোটরসাইকেলযোগে কালিতলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা জানায়, প্রকৌশলীর নামে মামলা রয়েছে এবং তাকে বগুড়া শহরে যেতে হবে। এরপর তারা তাকে একপ্রকার জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
মুক্তিপণ আদায়ের পর্যায়ক্রমিক ঘটনা
অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা প্রকৌশলীর স্ত্রীর কাছে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তার স্ত্রী আনজুমান আরা আড়াই লাখ টাকা দিতে সম্মত হন। নিচে মুক্তিপণ আদায় ও উদ্ধারের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অপহৃতের নাম ও পদবি | জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব, উপসহকারী প্রকৌশলী |
| প্রথম দফায় মুক্তিপণ | ১,৬০,০০০ টাকা (চেলোপাড়া এলাকা) |
| দ্বিতীয় দফায় মুক্তিপণ | ৫০,০০০ টাকা (সাবগ্রাম এলাকা) |
| মোট পরিশোধিত অর্থ | ২,১০,০০০ টাকা |
| পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত অর্থ | ১,১৬,০০০ টাকা |
| শনাক্তকৃত মোট অপরাধী | ৬ জন (গ্রেফতার ৩ জন) |
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান
ডিবি পুলিশের জালে আটক হওয়া তিনজন হলেন—বগুড়া শহর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার (৩০), তার সহযোগী শাহিন হোসেন (৩৪) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)। এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শহর যুবদলের সভাপতি দাবি করেছেন যে, সঞ্জয় সরকারকে অনেক আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, আটককৃত সঞ্জয় সরকারের দাবি, পুলিশি গ্রেফতারের পর দায় এড়াতে সংগঠনটি তাকে পেছনের তারিখ ব্যবহার করে বহিষ্কার দেখাচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান
বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ইকবাল বাহার জানান, মামলার পর তারা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছয়জনকে শনাক্ত করেন। এদের মধ্যে চারজন ডিবি পুলিশ এবং দুইজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রকৌশলীকে ভয় দেখিয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, বাকি তিন পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক বা পরিচয় ব্যবহার করে এমন অপরাধ রুখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।
