ডিজিটাল অপরাধে ৬১ জনের ৪৪৫ হিসাব অবরুদ্ধ

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অন্যান্য ডিজিটাল অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ৬১ জন ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থ-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ মূলত অপরাধলব্ধ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা গোপন করার চেষ্টা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা অনুসন্ধানে সিআইডি আরও ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছে, যাদের মধ্যে এসএম জুনাইদুল হক, ওমর হীত হিটলু ও মেহেদী হাসান তালুকদার রয়েছেন। তাদের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মোট ৫৯৫টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট জমার পরিমাণ ১,২১২ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং উত্তোলনের পরিমাণ ১,২০৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এসব লেনদেনের মধ্যে অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন গেমিং বা বেটিং, হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং শুল্ক ফাঁকি সংক্রান্ত কার্যকলাপ সরাসরি যুক্ত রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অপরাধলব্ধ অর্থ দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরিত না হতে পারে।

নিচের টেবিলে অবরুদ্ধ হিসাব এবং প্রাথমিক অর্থের পরিমাণ সংক্ষেপে দেখানো হলো:

অভিযুক্ত সংখ্যাব্যাংক হিসাব সংখ্যাজমার পরিমাণ (কোটি টাকা)উত্তোলনের পরিমাণ (কোটি টাকা)
৬১ জন৪৪৫১,২১২.০৪১,২০৭.০৬

সোমবার (৯ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। এর আগে, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আদালতে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের জন্য আবেদন করেছিলেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় অপরাধমূলক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

এটি একটি বড় ধরনের আইনানুগ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জড়িত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা দৃঢ় করবে।