ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিশ্চিত করেছেন, আগামীকাল শনিবার পালিতব্য মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনকে ঘিরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোনো ধরনের নিরাপত্তাশঙ্কা নেই। শুক্রবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, দিবসের মর্যাদা এবং শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ণ রাখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। “নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য পুলিশের সব শাখা, সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ক্রাইম সিন ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে,” তিনি জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি শুরু হবে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ বিদেশি কূটনীতিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সাধারণ জনগণকে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
ডিএমপি নাগরিকদের অনুরোধ করেছে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশ ও প্রস্থান রুট
| প্রবেশ রুট | প্রস্থান রুট | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পলাশী মোড় | রমনা ক্রসিং → দোয়েল চত্বর / চানখারপুল | অন্যান্য রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না |
| জগন্নাথ হল ক্রসিং | একই রুট অনুসরণ | শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে |
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। এগুলো হলো: শাহবাগ, নীলক্ষেত, শহীদুল্লাহ হল, হাইকোর্ট, চানখারপুল, পলাশী এবং বকশীবাজার ক্রসিং।
সফল ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে, ডিএমপি সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক বহন না করার জন্য সতর্ক করেছে।
নিরাপত্তার স্তরসমূহ
র্যাব মহাপরিচালক কে এম শহিদুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুরো এলাকা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকটি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “দাবি আদায় বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের নামে সাধারণ মানুষের ওপর কোনো জুলুম বা বাধ্যতা আরোপ করা হবে না। সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দেয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই কর্মসূচি প্রতি বছর গৌরবময় ও জনসম্মুখে উদযাপিত হয়। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এবারও তা সুষ্ঠুভাবে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
