রাজধানীর যানজট নিরসনে আধুনিক জনপরিবহন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত মেট্রোরেল সেবায় এক জরুরি প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর আওতাধীন সকল প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অর্জিত ও নির্ধারিত সকল প্রকার ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করা হয়েছে। আজ রোববার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত এক অফিস আদেশ বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
Table of Contents
বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত ও আওতাধীন ক্ষেত্রসমূহ
ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে, মেট্রোরেল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চলমান নির্মাণ কাজের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছুটির এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মূল রেল পরিচালনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যই নয়, বরং সংস্থার বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মীদের ওপরও কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত স্থানসমূহ হলো:
মেট্রোরেল ভবন: যেখানে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাজ সম্পন্ন হয়।
ডিপো এলাকা: ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র।
মেট্রোরেল স্টেশন: যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতকরণ ও নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত জনবল।
চলমান প্রকল্প: এমআরটি লাইন-৬ ছাড়াও অন্যান্য প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন লাইনের কাজ।
ছুটি বাতিলের সম্ভাব্য কারণ ও প্রেক্ষাপট
যদিও ডিএমটিসিএল-এর পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ছুটি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ সামনে উঠে আসছে। সাধারণত মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামোতে বিশেষ প্রয়োজনে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১. কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ: মেট্রোরেলের নিয়মিত চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সিস্টেমের ভেতর বড় ধরনের কোনো সংস্কার বা কারিগরি উন্নয়নের কাজ চলমান থাকলে বাড়তি জনবলের প্রয়োজন হয়।
২. নিরাপত্তা জোরদার: বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম অগ্রাধিকার।
৩. সেবার মান উন্নয়ন: যাত্রী সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্টেশনে ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং ট্রেনের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মীদের কর্মস্থলে থাকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
৪. নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি: ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ এর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
একনজরে ডিএমটিসিএল এবং মেট্রোরেল প্রকল্পসমূহ
মেট্রোরেলের কর্মযজ্ঞের ব্যাপকতা বোঝার জন্য নিচের সারণিটি লক্ষ্য করা যেতে পারে, যা এই বিশাল কর্মীবাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরে:
| প্রকল্পের নাম | বর্তমান অবস্থা | দৈর্ঘ্য (কিমি) | উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব |
| এমআরটি লাইন-৬ | পূর্ণাঙ্গ চালু | ২১.২৬ | উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্রুত যাতায়াত। |
| এমআরটি লাইন-১ | নির্মাণাধীন | ৩১.২৪ | বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল। |
| এমআরটি লাইন-৫ | প্রাথমিক কাজ চলমান | ২০.০০ | সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত সংযোগ। |
| এমআরটি লাইন-২ ও ৪ | পরিকল্পনা পর্যায় | – | ঢাকা ও এর আশপাশের শহরতলীকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা। |
যাত্রীসেবায় প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
মেট্রোরেল বর্তমানে ঢাকার যাত্রী পরিবহনে একটি আস্থার নাম। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই সেবা গ্রহণ করছেন। কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত পরোক্ষভাবে যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতে করে স্টেশনে সেবার মান বৃদ্ধি এবং যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সারিয়ে তোলার সুযোগ বাড়বে।
তবে কর্মীদের মধ্যে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে ছুটির পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা সাময়িকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হবেন। ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এমন কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
পরিশেষে, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড তাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে, যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং মেট্রোরেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক কঠোরতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
