মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি আবারও চরম কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকলে দেশটিকে “পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে”—এমন বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, তার নিরাপত্তা প্রশ্নে তিনি কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নন এবং এ বিষয়ে আগাম কঠোর নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তাদের এমনটা করা উচিত নয়। তবে আমি আগেই নির্দেশ দিয়েছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০২০ সালে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক নেতা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এমন পরিকল্পনা থাকতে পারে। সোলাইমানি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের উচিত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো। তার মতে, এমন হুমকির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনা হলে জনগণও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারত।
ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের ওপর “সর্বোচ্চ চাপ” নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার পথ খোলা রাখার কথাও বলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান যদি হত্যাচেষ্টা চালায়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও চূড়ান্ত।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হাজারো মানুষের মৃত্যুর বিষয়েও ট্রাম্প কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “গ্রাস” করতে চায় এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রেক্ষাপট ও প্রধান বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রাম্পের মূল হুঁশিয়ারি | হত্যাচেষ্টা হলে ইরান ধ্বংস |
| সম্ভাব্য কারণ | কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ |
| সময়কাল | ২০২৪ নির্বাচনি প্রচারণা থেকে বর্তমান |
| ইরানের পাল্টা অভিযোগ | যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র |
| আন্তর্জাতিক প্রভাব | মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা |
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও, এমন কঠোর ভাষা ও হুমকি বৈশ্বিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
