যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ও হস্তক্ষেপ বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্প ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ ও ‘ঐক্যের সাধক’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে এক বছরেরও কম সময়ে তার পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ধারা-বিপরীত প্রভাব ফেলেছে।
এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ট্রাম্প ১১টি দেশে সামরিক হুমকি দিয়েছেন এবং সাতটি দেশে তার নির্দেশে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ৯০টিরও বেশি দেশে কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ৩৮ দেশের নাগরিকদের পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তার ঘোষণার পরিপন্থী। ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসন এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা দখলের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান, গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকো এখন তার সামরিক হুমকির লক্ষ্য। চীন ও ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করছে।
| দেশ | হুমকির ধরন | প্রভাব/পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| ভেনেজুয়েলা | সামরিক আগ্রাসন | প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ক্ষমতা দখল |
| ইরান | হুমকি | বিক্ষোভ দমন ও শাস্তির জন্য চাপ |
| গ্রিনল্যান্ড | দখল পরিকল্পনা | ডেনমার্কের সশস্ত্র সতর্কতা |
| মেক্সিকো | ড্রাগ কার্টেল অভিযানের হুমকি | সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব |
| চীন ও ভারত | শুল্ক আরোপ | বাণিজ্য চাপ ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া |
ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ মনে করছেন বলে প্রতিপন্ন হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে তুলনামূলক দুর্বল দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকারে আগ্রহী হতে পারে।
লাতিন আমেরিকায় বিশেষভাবে ভেনেজুয়েলা ও কিউবা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে। ভেনেজুয়েলায় তেল মজুত (প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল, বিশ্বের ১৭ শতাংশ) এবং চীনের ব্যপক বিনিয়োগ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়াও প্রভাবিত করছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, পেরুতে চীনা পণ্য ও পরিষেবার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।
গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডেনমার্ক সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখানে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তা আন্তর্জাতিক জটিলতা তৈরি করবে। ইউরেশিয়ার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি রাশিয়াকে ইউক্রেনে সুবিধা দিতে পারে।
এ ছাড়া তাইওয়ান, আফ্রিকা, সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা না দেওয়া এবং সামরিক হস্তক্ষেপে স্বচ্ছন্দতার এই নীতি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো শুধু দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, অর্থনৈতিক এবং সামরিক ভারসাম্যও বিপর্যস্ত করছে।
