ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তারপরে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হন কমলা হ্যারিস। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হন।

তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পার হতেই জনমত জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, জনগণ কেবল তাঁর রাজনৈতিক পারফরম্যান্সের জন্যই উদ্বিগ্ন নন, বরং তাঁর মানসিক তীক্ষ্ণতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এটি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, যদিও বাইডেনের সময়কার উদ্বেগের তুলনায় এতটা তীব্র নয়।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোর পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, অনেক আমেরিকান তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এমন উদ্বেগের মধ্যে অনেক রিপাবলিকানও আছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ বক্তৃতার আগে অনুষ্ঠিত রয়টার্স-ইপসস জরিপে দেখা গেছে,

বিষয়জনমতের শতাংশমন্তব্য
বয়সের কারণে খামখেয়ালির ভাব৬১%৩০% রিপাবলিকানও একমত
মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ ও সক্ষম৪৫%২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৪%
শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস৫১% সন্দেহ২০২৩ মে তুলনায় ২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি

২০১২ সালের ক্যাপিটল হিলে হামলার পর কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে ৫০% ভোটার ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে স্থিতিশীল নন’ বলে মনে করতেন। বর্তমানের ৬১% জনমত বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। একইভাবে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতার ওপর ‘খুব আত্মবিশ্বাসী’ মানুষের হার এক বছরে ৩৯% থেকে কমে ৩২%-এ দাঁড়িয়েছে। শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি ৩৫% থেকে ২৮%।

নিজের সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের ভক্তদের মধ্যে মানসিক সক্ষমতার ওপর ‘খুব আত্মবিশ্বাসী’ মানুষের হার ৭৫% থেকে কমে ৬৬% এবং শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ৬৫% থেকে কমে ৫৫% হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের শিবিরের প্রতিটি ১০ জনের মধ্যে তিন বা তার বেশি মানুষ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পতনের সঙ্গে যুক্ত। তার অদ্ভুত আচরণ—আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড বিভ্রান্তি, জনসমক্ষে ঘুমিয়ে পড়ার গুঞ্জন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য বিলম্ব—এই উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, বয়সী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠাটা নতুন নয়, এবং ট্রাম্পও এখন সেই একই সমস্যার মুখোমুখি।

এই জরিপ ও জনমতের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেবল কর্মক্ষমতা নয়, মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার উপরও নির্ভর করছে।