মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তেহরানকে উদ্দেশ্য করে কঠোর সতর্কবার্তা এবং সময়সীমা ঘোষণা করলেও, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে কোনো চাপ বা হুমকিতে তারা প্রবণ হবে না। ইরানি কর্মকর্তারা পুনরায় জোর দিয়েছেন যে, তারা “সম্মানজনক ও ন্যায্য” আলোচনা চালাতে প্রস্তুত, কিন্তু বাধ্যতামূলক চাপের কোনও প্রকার গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌবহর এবং সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আগের তুলনায় অনেক কঠোর হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, “শক্তিশালী নৌবহর” দ্রুত ইরানি জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং যে কোনো নির্দেশ কার্যকর করতে সক্ষম।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং যে কোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তা ত্বরিত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পারমাণবিক চুক্তি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি ইরানের বর্তমান প্রশাসনকে “ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল” এবং অর্থনীতি “গুরুতর সংকটাপন্ন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রুবিও সতর্ক করেছেন যে, ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেশটির ভবিষ্যত রাজনৈতিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের জাতিসংঘ মিশনও বিবৃতি দিয়েছে যে, আলোচনায় বসা দুর্বলতার নিদর্শন নয়। তারা সতর্ক করেছেন যে, যদি বহিরাগত শক্তি ইরানকে চাপ প্রয়োগ করে, তবে তেহরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভূতপূর্ব প্রতিরক্ষা ও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
বর্তমান অবস্থানগুলো সহজভাবে নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান |
|---|---|---|
| পারমাণবিক চুক্তি | জরুরি সমাধান দাবি; হুমকি প্রকাশ | ন্যায্য ও সমতার ভিত্তিতে চুক্তি চান |
| সামরিক প্রস্তুতি | নৌবহর ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন | পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি |
| আলোচনা শর্ত | চাপ ও সময়সীমা আরোপ | কোনো বাধ্যতা ছাড়া সংলাপ চান |
| সম্ভাব্য ফলাফল | শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা | অভূতপূর্ব পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, হুমকি বা বাহ্যিক শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপই নিরাপদ ও গঠনমূলক সমাধানের পথ।
