ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ছাড়ের পরিকল্পনা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানে এক চাঞ্চল্যকর চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই শান্তি পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেনের অন্যান্য ভূখণ্ডের ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ করে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ইতিমধ্যে মস্কোতে পাঠিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি এই শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য কোনো মিত্র দেশের অবস্থানকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মনে করে ইউরোপীয়রা তাদের নিজেদের পথে চলতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায়।

ক্রেমলিন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, জেনেভায় ইউক্রেনীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে জরুরি আলোচনার পর একটি সংশোধিত কৌশল তাদের হাতে পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে তৈরি ২৮ দফার সেই পরিকল্পনায় ক্রিমিয়া এবং পূর্ব দনবাস অঞ্চলের রুশ নিয়ন্ত্রণকে এক প্রকার ‘প্রকৃত স্বীকৃতি’ (De facto recognition) দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন ও জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলের বর্তমান সীমান্তরেখাকেই স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

পুতিন আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও ক্রিমিয়ার স্বীকৃতি না পেলে কোনো আলোচনা সফল হবে না। ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পরিকল্পনা পুতিনের সেই দাবিগুলোর সঙ্গে অনেকটা মিলে যাচ্ছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলে আসছেন যে, ভূখণ্ড ত্যাগ করে কোনো শান্তি চুক্তি তারা গ্রহণ করবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়, তবে তা ন্যাটোর ঐক্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।

জিলাইভ/টিএসএন