মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সম্ভাব্যভাবে শেষ করার উপায় খুঁজে বের করা। ট্রাম্প বহুবার জানিয়েছেন, তিনি সংঘাত বন্ধ করতে আগ্রহী, তবে তার আগের প্রচেষ্টা—যেমন আগস্টে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক—এখন পর্যন্ত কার্যকর ফলাফল দিতে পারেনি।
গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া ২৮ দফার মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ইউক্রেনীয় এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ন্যাটো, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল, এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ওপর বিধিনিষেধ। ইউরোপীয় শক্তিগুলো এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। জেনেভায় আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি হালনাগাদ এবং সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, উইটকফের সঙ্গে বৈঠক দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাশিয়ার ‘রেড লাইন’ বা অস্বীকারযোগ্য শর্তের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পুতিন বলেছেন, তিনি শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু ইউক্রেন কোনো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে রাশিয়ার বাহিনী আরও অগ্রসর হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল সম্পর্কিত তথ্য নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ইউক্রেনে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল | ১৯% (দুই বছর আগে ১৮%) |
| নতুন দখলকৃত শহর | পোক্রোভস্ক, ভোভচানস্ক |
| দুই বছরের যুদ্ধে হতাহত | ১২ লাখের বেশি (মার্কিন হিসাব, উভয় দেশ সংখ্যা প্রকাশ করছে না) |
| রাশিয়ার মূল দাবি | ইউক্রেন কখনো ন্যাটোতে যোগ না দেবে; দনবাসের পুরো নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে থাকবে; ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ওপর বিধিনিষেধ; রুশ ভাষাভাষী ও অর্থোডক্স অনুসারীদের সুরক্ষা |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব | কিয়েভের জন্য ১০ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার দাবিগুলো পূরণ করলে ইউক্রেন আত্মসমর্পণের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। ইউক্রেন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো এখনও এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি নয় যা দেশের সার্বভৌমত্ব হ্রাস করবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দুই বছরের যুদ্ধের ফলে ১২ লাখের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় ও রাশিয়ান সেনারা নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করছে না, তবে ক্ষয়ক্ষতির আকার বিশাল। আন্তর্জাতিক মহল শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ শুধুমাত্র অঞ্চলীয় সংঘাত নয়, বরং বৃহৎ ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে।
