বগুড়ার কাহালু উপজেলায় অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাকের চাপায় আনোয়ারুল (৩৫) নামের এক চার্জার ভ্যানের আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের মালঞ্চা এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আনোয়ারুল মালঞ্চা ইউনিয়নের বিশাবড়গাছা (চুনাগাড়ী) গ্রামের মৃত মো. আবুল হোসেনের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে আনোয়ারুল পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে চার্জার ভ্যানে চড়ে দুর্গাপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। ভোরের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও মালঞ্চা এলাকায় পৌঁছানোর পর পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক হঠাৎ তার চার্জার ভ্যানটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আনোয়ারুল গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে কিছু করার আগেই তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ফলে ট্রাকটির নম্বর কিংবা চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) জসিম উদ্দিন জানান, ট্রাকচাপায় আনোয়ারুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মালঞ্চা এলাকার ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করে। ভোর ও রাতের বেলায় ট্রাকগুলোর অতিরিক্ত গতি এবং বেপরোয়া চালনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে পর্যাপ্ত গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নজরদারি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারুল একজন সাধারণ দিনমজুর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা জানান, আনোয়ারুল ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং এলাকায় তার কোনো শত্রুতা ছিল না।
সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের চলাচল বাড়লেও সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি। চার্জার ভ্যানের মতো ধীরগতির যানবাহনের সঙ্গে দ্রুতগতির ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এ ধরনের সড়কে আলাদা লেন, স্পিড ব্রেকার এবং নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত ঘাতক ট্রাক শনাক্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
