আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার (কনটেম্পট অব কোর্ট) অভিযোগ দায়ের করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফজলুর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে কেন্দ্র করে করা কিছু মন্তব্যে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন।
ট্রাইব্যুনাল–১-এর একক বেঞ্চ, সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, বুধবার (২৬ নভেম্বর) মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ ডিসেম্বর, রবিবার ধার্য করেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, আদালত অবমাননার এ মামলায় প্রসিকিউশন ইতিমধ্যেই আবেদন দাখিল করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে সমালোচনা বা বিরূপ মন্তব্য “কনটেম্পট অব কোর্ট” হিসেবে গণ্য করা হয়। এর অর্থ, বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করলে আদালত এ ধরনের মামলা গ্রহণ করতে পারে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে ফজলুর রহমান আদালতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেননি এবং তার মন্তব্য আদালতের মর্যাদা ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিচারিক বেঞ্চ পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগের ভিত্তি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর আওতায় বিচারাধীন অনেক মামলা অতীতের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ট্রাইব্যুনাল নিয়মিতভাবে আদালতের মর্যাদা রক্ষা ও বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “আদালতের কার্যক্রমের প্রতি কনটেম্পট অব কোর্টের অভিযোগ একটি গুরুতর মামলা। এটি আদালতের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে যথাযথ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কনটেম্পট অব কোর্টের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সচেতন করতে এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ নিশ্চিত করতে প্রায়শই শাস্তিমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই ধরনের মামলা মূলত আদালতের প্রভাব ও ক্ষমতা রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা বজায় রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হয়।
ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর ট্রাইব্যুনালে আলোচিত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না। এমনকি রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট আইনজীবীর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
পরবর্তী শুনানায় আদালত অভিযোগের যথাযথ ব্যাখ্যা ও প্রমাণপত্র মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তের জন্য উপযুক্ত নির্দেশনা জারি করবে।
