কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় খেলার সময় ছয়জন শিশু-কিশোর অপহরণের শিকার হওয়ার ঘটনা এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় দুজন শিশু। তবে বাকি চারজন এখনো নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন শিশু-কিশোর বাড়ির পাশের খোলা জায়গায় খেলাধুলা করছিল। এ সময় পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসে অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি। তারা শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে পাহাড়ের গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। অপহরণের শিকার ছয়জনের মধ্যে দুজন সুযোগ বুঝে অপহরণকারীদের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় এবং পরে স্থানীয়দের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
অপহৃত চার শিশু-কিশোর হলো মো. মামুন (১৭), আনোয়ার হোসেন (১৪), গিয়াস উদ্দিন (১৫) ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (১৩)। আর পালিয়ে আসা দুই শিশু হলো ইসমাইল (১৭) ও মো. শাহীন (১৩)। পালিয়ে আসা শিশুরা জানায়, অপহরণকারীরা সবাই অস্ত্রধারী ছিল এবং তারা দ্রুত পাহাড়ের ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পথের একপর্যায়ে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সুযোগে তারা দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অপহরণের ঘটনায় জড়িত শিশুদের তথ্য
| নাম | বয়স | অবস্থা |
|---|---|---|
| মো. মামুন | ১৭ | অপহৃত |
| আনোয়ার হোসেন | ১৪ | অপহৃত |
| গিয়াস উদ্দিন | ১৫ | অপহৃত |
| আবু বক্কর ছিদ্দিক | ১৩ | অপহৃত |
| ইসমাইল | ১৭ | পালিয়ে এসেছে |
| মো. শাহীন | ১৩ | পালিয়ে এসেছে |
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে এবং নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাহাড়ি পথ ও সন্দেহভাজন এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনাফ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচলের খবর পাওয়া যায়। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অপরাধীরা অনেক সময় এসব জায়গাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন স্থানীয়রা।
অপহৃত শিশুদের পরিবারগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযানের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেন, নিরীহ শিশুদের অপহরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অনেক পরিবার রাতভর উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছে, কেউ কেউ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে প্রিয় সন্তানের ফেরার আশায় অপেক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সন্ধ্যার পর খেলার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপহৃত শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। Meanwhile, পুরো এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
