টেকনাফে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হত্যা মামলার আসামি ইউপি সদস্য রেজাউল করিমের মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফে বহুল আলোচিত সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউনুস হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রেজাউল করিম (৩৬) পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম নিয়েছে।

রেজাউল করিম হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান নির্বাচিত সদস্য এবং দরগাহপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা তার বিরুদ্ধে ছিল বলে টেকনাফ থানা সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর ৪ ডিসেম্বর তাকে কক্সবাজার শহরের ইউনিয়ন হাসপাতাল থেকে র‍্যাব আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তখনই জানা যায় তিনি শ্বাসকষ্ট ও বেশ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশের দাবি—হেফাজতে নেওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু ঘটে। তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠছে—রেজাউল করিমকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল কি না, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, কিংবা তার অসুস্থতার মাত্রা সত্যিই এতটাই জটিল ছিল কি না।

এদিকে রেজাউলের পরিবারের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারের কোনো সদস্য হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন কি না তাও জানা যায়নি, যা আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই ‘সংবেদনশীল’, তাই এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউনুসকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির পর হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলেরডেইল এলাকায় মো. আলমের বাড়িতে এনে আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে ৬০–৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরদিন ৫ নভেম্বর সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইউনুসের স্ত্রী ৬ নভেম্বর আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় রেজাউল করিম অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।

এখন রেজাউল করিমের মৃত্যু মামলার তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি করবে। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রমাণ কোথায় দাঁড়াবে? অন্য আসামিদের ভূমিকা কি ছিল? ঘটনার সাথে সম্পর্কিত আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কি তার কাছ থেকেই জানা যেত? তদন্তকারী সংস্থা এখন এসব প্রশ্নের মুখোমুখি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রেজাউলের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও খুনের মতো ঘটনাগুলো ভয়ঙ্কর মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনুস হত্যা ও পরবর্তীতে প্রধান আসামির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আবারও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। স্থানীয়দের দাবি—স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই ঘটনাগুলোর সম্পূর্ণ চিত্র জানা সম্ভব নয়।