টেকনাফের রঙ্গীখালী পাহাড় থেকে ৩০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, বোমা তৈরির উপকরণ ও হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে। এই অভিযান বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উখিয়া (৬৪) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, রঙ্গীখালী পাহাড় ও পাশ্ববর্তী বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড় এলাকায় কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। এই চক্র স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন জানান, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের একটি দল তিন স্তরের কৌশলে অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রঙ্গীখালী পাহাড়ে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করলে এলাকা ঘিরে ফেলে বিজিবি। ডাকাত দলটি গুলি ছোড়ায় আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ডাকাতরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়।

অভিযান শেষে পরিত্যক্ত ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়:

  • একটি জি-৩ রাইফেল, রাইফেলের বিভিন্ন অংশ ও ম্যাগাজিন

  • ওয়ান শুটার গান, এলজি শুটার গান, এমএ-১ (এমকে-২)

  • একনলা গাদা বন্দুক, সিলিং

  • তিনটি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি মর্টারের গোলা

  • ১৭ কেজি গান পাউডার

  • হাতবোমা তৈরির উপকরণ

  • দেশীয় অস্ত্রসহ মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি ও ব্যবহৃত খালি খোসা

বিজিবির প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে আসছিল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন,

“দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬৪ বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


তথ্য-উপাত্তের সংক্ষিপ্ত টেবিল:

বিষয়তথ্য
অভিযান স্থানরঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার
অভিযান কর্তৃপক্ষউখিয়া (৬৪) ব্যাটালিয়ন, বিজিবি
তারিখ ও সময়১৭–১৮ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা
উদ্ধারকৃত অস্ত্রজি-৩ রাইফেল, ওয়ান শুটার গান, এলজি শুটার গান, এমএ-১, একনলা গাদা বন্দুক, দেশীয় অস্ত্র
গোলাবারুদ ও উপকরণ৩০২ রাউন্ড গুলি, হ্যান্ড গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, বোমা তৈরির উপকরণ
অভিযানের উদ্দেশ্যসীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সশস্ত্র ডাকাত চক্র ধ্বংস করা
অভিযানের ফলাফলবিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, ডাকাতরা পালিয়ে যায়
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক সমন্বিত অভিযান অব্যাহত