আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রাক্কালে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই প্রশাসনিক টেবিলে শুরু হয়েছে নতুন এক দৌড়ঝাঁপ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের জন্য ভারতের ভিসা পাওয়া বরাবরই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে এবার যেন কোনো খেলোয়াড়কেই মাঠের বাইরে বসে থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের স্কোয়াডে থাকা ৪২ জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা পাওয়ার পথ সুগম করতে ভারত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
Table of Contents
জটিলতার সূত্রপাত ও ভুক্তভোগী খেলোয়াড়বৃন্দ
ভিসা সংক্রান্ত এই বিতর্কের ডালপালা মেলতে শুরু করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্রিকেটার অভিযোগ করেন যে, তাদের ভারতের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন পেসার আলী খান সংবাদমাধ্যমে জানান, তার এবং তার আরও তিন সতীর্থ—শায়ান জাহাঙ্গীর, এহসান আদিল ও মোহাম্মদ মহসিনের ভিসা আবেদন ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। একইভাবে ইংল্যান্ডের তিন তারকা—আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও সাকিব মাহমুদকে নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে আইসিসির ত্বরিত পদক্ষেপে ইংলিশ ক্রিকেটাররা শেষ পর্যন্ত ভিসার অনুমতি পেয়েছেন।
আইসিসির সমন্বয় ও বর্তমান অগ্রগতির তথ্যচিত্র
আইসিসি কেবল ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং নেদারল্যান্ডস, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইতালির মতো দেশগুলোর পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সদস্যদের বিষয়টিও তদারকি করছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ইতোমধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বাকি থাকা আবেদনগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহের শুরুতে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভিসা জটিলতা ও বর্তমান পরিস্থিতির পরিসংখ্যান:
| সংশ্লিষ্ট দেশ | সদস্যদের ধরন | বর্তমান অবস্থা |
| ইংল্যান্ড | ৩ জন প্রধান ক্রিকেটার | ভিসা মঞ্জুর ও সম্পন্ন |
| যুক্তরাষ্ট্র | ৪ জন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা | বিশেষ বিবেচনায় প্রক্রিয়ধীন |
| নেদারল্যান্ডস | পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় | সফলভাবে ভিসা প্রাপ্ত |
| কানাডা | কারিগরি স্টাফ ও খেলোয়াড় | ভিসা নিশ্চিত হয়েছে |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | একাধিক সদস্য | সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষমাণ |
| ইতালি | নির্দিষ্ট খেলোয়াড়বৃন্দ | আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া |
চূড়ান্ত ডেডলাইন ও আইসিসির লক্ষ্য
আইসিসি এই প্রক্রিয়ার জন্য ৩১ জানুয়ারিকে সর্বশেষ সময়সীমা বা ডেডলাইন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের এই অভিভাবক সংস্থাটি চায়, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগেই যেন প্রতিটি দল লজিস্টিকস এবং মানসিক প্রস্তুতির দিক থেকে শতভাগ প্রস্তুত থাকে। আইসিসি বিভিন্ন দেশের ভারতীয় হাইকমিশনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগসূত্র বজায় রেখে আশ্বস্ত করেছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঝুলে থাকা সব আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
শেষ কথা
ক্রিকেটকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখতেই আইসিসির এই তৎপরতা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড় যাতে বৈশ্বিক এই আসর থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির এমন সক্রিয় ভূমিকা টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্বকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।
