কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরাহিমান আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দল ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, কেরালায় প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি অর্থ গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এই অভিযোগ তিনি বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে উত্থাপন করেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমি সত্যিই চেয়েছিলাম আর্জেন্টিনা দল এবং লিওনেল মেসি কেরালায় এসে খেলুক। আমরা বহুবার আলোচনায় বসেছিলাম। এমন একটি আন্তর্জাতিক দল আনার জন্য প্রয়োজনীয় ২৫০ কোটি টাকা জোগাড় করতে স্পনসর খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অর্থ দেওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা দল আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা কথা দিয়েও খেলতে আসেনি। আমরা এমন বিশ্বাসঘাতকতা আশা করিনি।”
কেরালার ঘটনা একক নয় বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, “আমরা খোঁজ নিয়েছি, আর্জেন্টিনা দল আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছে। অর্থ গ্রহণের পরও তারা ম্যাচে উপস্থিত হয়নি। এখন আমাদের তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দাবী করতে হবে।”
এই সফরের পরিকল্পনা বহু আগে থেকেই চলছিল। ২০২৫ সালে কেরালা সরকার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ও ফিফার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছিল। তবে সেই আলোচনাগুলো কার্যকর হয়নি। গত বছরের আগস্টে মন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল ২০২৬ সালের মার্চে কেরালায় একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলবে। কিন্তু নভেম্বরের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে খবর আসে যে সফরটি বাতিল।
আর্জেন্টিনা দল কেরালায় না গেলেও, লিওনেল মেসি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। ডিসেম্বরে ‘গোট ট্যুরে’ তিনি কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই, দিল্লি ও গুজরাটে দর্শক অনুষ্ঠান করেন। এই সফরের মধ্যে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে দর্শকদের অসন্তোষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নীচের টেবিলে সময়রেখা ও ঘটনাপ্রবাহ দেখানো হলো:
| তারিখ | ঘটনা | স্থান / মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০২৫ | প্রাথমিক আলোচনার আয়োজন | কেরালা সরকার ও এএফএ |
| ২০২৫ আগস্ট | প্রদর্শনী ম্যাচের ঘোষণা | কেরালা |
| ২০২৫ নভেম্বর | সফর বাতিলের খবর | সংবাদমাধ্যম |
| ২০২৫ ডিসেম্বর | মেসি ভারত সফর | কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই, দিল্লি, গুজরাট |
কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রীর এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা এখন দলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই ঘটনায় কেরালা ও অন্যান্য দেশগুলোর ফুটবল প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক দল ও তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আর্থিক ও চুক্তিগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এইভাবে, কেরালার ফুটবল প্রেমীরা প্রত্যাশিত মেসি ম্যাচের স্বপ্ন দেখতে পেরে হতাশ হয়েছেন, এবং আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
