টঙ্গীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার এরশাদনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এরশাদনগরের ৩ নম্বর ব্লকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিন আগে বিদেশফেরত এক ব্যক্তিকে মারধরের একটি ঘটনার জের ধরেই মূলত দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই উত্তেজনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সোমবার বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি ও দৌড়াদৌড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়, ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। বিশেষ করে শাকিল নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নারী ও তরুণ উভয়ই রয়েছেন, যা ঘটনাটির তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পূর্বশত্রুতা ও সামাজিক দ্বন্দ্ব সময়মতো সমাধান না হওয়ায় এমন সহিংস ঘটনা বারবার ঘটছে।

আহতদের পরিচয় ও অবস্থা নিচে টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সঅবস্থামন্তব্য
সোহাগ মিয়া২২আহতচিকিৎসাধীন
অহিদুল ইসলাম২৪আহতপ্রাথমিক চিকিৎসা
লাকি আক্তার৫০আহতস্থিতিশীল
রবু ইসলাম রবো২৫আহতপর্যবেক্ষণে
মো. শাকিলঅনির্দিষ্টআশঙ্কাজনকআইসিইউ পর্যবেক্ষণ
সাগর২৩আহতচিকিৎসাধীন

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টঙ্গী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সামাজিক উত্তেজনা নিরসনে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। না হলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।