ঝুট গুদামে আগুন চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার চান্দগাঁও থানা এলাকার অনন্যা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন একটি গার্মেন্টসের ঝুট গুদামে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রথমে গুদামে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেয়। এরপর তারা একটি বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থ গুদামের ভেতরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং গুদামের ভেতরে থাকা ঝুট ও দাহ্য সামগ্রী ব্যাপকভাবে দগ্ধ হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে গুদামের বড় একটি অংশ পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। তিনি আরও জানান, গত রমজান মাসে ওই ঝুট গুদামের মালিকের কাছে একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করেছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে মালিক থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি এবং পুলিশের কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক সহায়তা চাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, “দুপুরের কিছু আগে হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে গুদামে ঢুকে কর্মচারীদের বের করে দেয়। কিছুক্ষণ পরই আগুন জ্বলে ওঠে। আমরা দেখি ধোঁয়া উঠছে, এরপর ফায়ার সার্ভিস আসে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজি বা পূর্ববিরোধের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চলছে।

এর আগে গত বছরের শেষের দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এবং বায়েজিদ থানা এলাকায় পৃথক দুটি ঝুট গুদামে একই ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময়ও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গুদামগুলোতে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
স্থানচান্দগাঁও থানা, অনন্যা আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম
সময়বুধবার, ১ এপ্রিল, দুপুর
ঘটনার ধরনপরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ
সন্দেহভাজন সংখ্যা৮–১০ জন
ব্যবহৃত উপাদানদাহ্য তরল পদার্থ
ক্ষয়ক্ষতিগুদামের বড় অংশ পুড়ে যায়
তদন্ত অবস্থাপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তদন্ত চলছে

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিল্পাঞ্চল ও গুদাম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।