ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু

দেশের শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে, যেখানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগের স্থায়ী টিকাকেন্দ্রের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল এবং কমিউনিটি সেন্টারেও টিকা দেওয়া হবে, যাতে অধিক সংখ্যক শিশুকে সহজে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশে হাম-রুবেলায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম ধাপে এই বয়সসীমার সব শিশুকেই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে—তারা পূর্বে টিকা গ্রহণ করে থাকুক বা না থাকুক।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি উপজেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। অন্য উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরামর্শ দিয়েছে, যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়া উচিত।

মন্ত্রী জানান, এই কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

নিচে কর্মসূচির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
কর্মসূচি শুরু৫ এপ্রিল
সময়সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা
আওতাভুক্ত এলাকা১৮ জেলার ৩০ উপজেলা
লক্ষ্য বয়স৬ মাস – ৫৯ মাস
বিশেষ সুবিধাআক্রান্তদের ভিটামিন ‘এ’
বাস্তবায়নস্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন

উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, চাঁদপুর সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, পাবনা সদর, গাজীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালীসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।