ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে পথ থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার বিবরণ ও নৃশংসতা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী তার প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে মহেশপুর উপজেলার সামন্তা ও বাগদিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী রাস্তার নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা দুই যুবক তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কিশোরীটিকে জোরপূর্বক অপহরণ করে কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সেখানে আরও দুই যুবক তাদের সাথে যোগ দেয়। অভিযুক্তরা অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে মেয়েটির হাত বেঁধে ফেলে এবং মুখ চেপে ধরে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর চারজন মিলে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। পৈশাচিকতা এখানেই শেষ হয়নি; অভিযুক্তদের মধ্যে একজন এই পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ধর্ষণের পর তারা কিশোরীটিকে এই বলে হুমকি দেয় যে, যদি সে বিষয়টি কাউকে জানায় তবে ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

ভয় ও লোকলজ্জার কারণে প্রথম দিকে মেয়েটি চুপ থাকলেও পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

ক্রমিকতথ্যের বিষয়বিবরণ
গ্রেপ্তারকৃত আসামি ১হযরত আলী (১৮), পিতা: হাফিজুর রহমান
গ্রেপ্তারকৃত আসামি ২আসের আলী ওরফে রাজু (১৯), পিতা: আনোয়ার হোসেন
ঘটনার তারিখ২৬শে মার্চ, ২০২৬ (সন্ধ্যায়)
গ্রেপ্তারের তারিখ১লা এপ্রিল, ২০২৬ (সকালে)
অভিযানের স্থানবাগদিয়া ও সামন্তা চারাতলা পাড়া
মামলার ধরণসংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন
মামলার বাদীভুক্তভোগীর ফুফু

পুলিশের বক্তব্য ও সামাজিক উদ্বেগ

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় দিবসের সন্ধ্যায় এমন ন্যাক্কারজনক অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার নিষ্পত্তির দাবি তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বর্তমানে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলাটির তথ্যপ্রমাণ এবং ধারণকৃত ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে যাতে অপরাধীরা কঠোরতম দণ্ড পায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজ থেকে এ ধরণের ব্যাধি দূর করা সম্ভব হবে।