ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক মাদকবিরোধী অভিযানকালে পুলিশি সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) রতন চন্দ্র হাওলাদার আহত হয়েছেন। আহত এসআই বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালিয়া থানার বিশেষ টিম মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় সুজন হাওলাদার (৩০) নামের এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়। সুজন কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর ইউনিয়নের সোবাহান হাওলাদারের ছেলে। আটককালে সে আচমকাই হামলা চালিয়ে এসআই রতন চন্দ্র হাওলাদারের হাতে কামড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আট পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান বলেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন। আহত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছেন এবং তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।”
স্থানীয়রা জানান, চেচরীরামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক বাণিজ্য বিরাজ করছে। তবে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও র্যাপিড রেসপন্স টিমের কার্যক্রম এ ধরনের অপরাধ দমন করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আহত কর্মকর্তা | রতন চন্দ্র হাওলাদার, এসআই, কাঁঠালিয়া থানা |
| ঘটনার স্থান | চেচরীরামপুর, কাঁঠালিয়া উপজেলা, ঝালকাঠি |
| সময় ও তারিখ | মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, দুপুর |
| অভিযুক্ত | সুজন হাওলাদার, বয়স ৩০, সোবাহান হাওলাদারের ছেলে |
| আটক পদার্থ | ৮ পিস ইয়াবা |
| মামলা | মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন |
| চিকিৎসা | স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা, অবস্থা স্থিতিশীল |
পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান চালানো হবে, পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সরেজমিন তৎপরতা বজায় রাখছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, “মাদক ও সন্ত্রাস এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তবে পুলিশের তৎপরতা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আশা করি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
এই ঘটনা প্রমাণ করে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা সর্বদা বিপদে পড়তে পারেন। তাই সতর্কতা, সমন্বিত পদক্ষেপ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় পুলিশ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
