ভারতের ঝাড়খণ্ডে সোমবার সন্ধ্যায় একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলশ্রুতিতে বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন। রাঁচি থেকে দিল্লিগামী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মাঝ আকাশে হঠাৎ করে যোগাযোগ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা বিমানটি মাত্র ২৩ মিনিট পর রাডার এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সংযোগ হারায়। পরে চাতরা জেলার সিমারিয়া থানার এলাকায় বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্ঘটনা পালামৌ ও লাতেহারের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটেছে।
বিমানের ধরন ছিল বিচক্রাফট সি-৯০ মডেল, যা পরিচালনা করছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, কলকাতার সঙ্গে সংযোগের কিছু সময় পর রাত ৭টা ৩৪ মিনিটে বিমানটি রাডার থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়।
বিমানে মোট সাতজন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে দুইজন পাইলট, একজন চিকিৎসক, দুইজন প্যারামেডিক, দুইজন সহকারী এবং একজন রোগী। আহত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল; তবে তার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তিনি জীবিত পৌঁছাননি।
আরোহীদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:
| আরোহীর ধরন | নাম/অবস্থা | বয়স/বিবরণ |
|---|---|---|
| পাইলট | বিবেক বিকাশ বিলাগত | অবিবাহিত, অভিজ্ঞ পাইলট |
| সহ-পাইলট | সর্বদীপ সিংহ | অভিজ্ঞ পাইলট |
| রোগী | অজানা (৬৩% দগ্ধ) | ৪১ বছর, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন |
| চিকিৎসক | অজানা | রোগীর চিকিৎসা দায়িত্বে |
| প্যারামেডিক | দুইজন | বিমান-চিকিৎসা সহকারী |
| সহকারী | দুইজন | রোগীর সহায়তায় দায়িত্বে |
ঝাড়খণ্ড জেলা প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, যান্ত্রিক ত্রুটি বা আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা ভারতের আকাশপথে যাত্রা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। বিশেষত জরুরি মেডিকেল ট্রান্সপোর্টে ব্যবহৃত বিমানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ফ্লাইট মনিটরিং এবং সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় রাঁচি বিমানবন্দর এবং এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষকে আরও উন্নত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ট্র্যাজেডি পুনরায় ঘটানো রোধে মেডিকেল ফ্লাইট অপারেশনগুলোর কঠোর নজরদারি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
