কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক কয়েক দিন আগেও ছিল অবিরাম যানবাহনের চলাচলে মুখরিত। প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহনের চাপ, হর্নের শব্দ আর ব্যস্ততার কারণে এই সড়কটি ছিল প্রায় সবসময়ই যানজটপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাবে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা এখন অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সড়কের অধিকাংশ অংশই এখন তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ও নীরব অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার অভ্যন্তরীণ কিছু ছোট যানবাহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার যাতায়াত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনচালিত যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সড়কের স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে কটিয়াদী-ভৈরব সড়কে দেখা যায়, আগের মতো যানবাহনের দীর্ঘ সারি নেই। সড়কের বড় অংশজুড়ে এখন ছোট ছোট অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের আধিপত্য বেশি। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের চলাচল অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষও দীর্ঘ পথের যাত্রা এড়িয়ে চলছেন।
চালকরা জানান, জ্বালানি পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া এখন বড় অনিশ্চয়তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো তেল পাওয়া গেলেও তা সীমিত পরিমাণে, আবার অনেক সময় একাধিক পাম্প ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে করে তাদের আয় কমে গেছে এবং দৈনন্দিন জীবনে বাড়ছে চাপ।
একজন মোটরসাইকেল চালক আজিজুল হক সৌরভ বলেন, জ্বালানি না পাওয়ার কারণে অনেক সময় কাজের জন্যও বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, প্রয়োজন ছাড়া এখন আর বাইরে যাতায়াত করেন না এবং তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা এড়িয়ে চলেন।
অন্যদিকে ট্রাক চালক জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ ছিল। একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে তাদের কাজ থেমে গেছে। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যাতে আবার নিয়মিত পরিবহন কার্যক্রম শুরু করা যায়।
এদিকে সাধারণ পথচারীরা সড়কের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যানবাহন কমে যাওয়ায় রাস্তা পারাপার এখন অনেক সহজ হয়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।
পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | আগের অবস্থা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| যানবাহনের চাপ | অত্যন্ত বেশি | অনেক কম |
| দূরপাল্লার যান | নিয়মিত চলাচল | প্রায় বন্ধ |
| জ্বালানি প্রাপ্যতা | সহজলভ্য | অনিয়মিত ও সংকটপূর্ণ |
| সড়ক পরিস্থিতি | যানজটপূর্ণ | তুলনামূলক ফাঁকা |
| যাত্রী চলাচল | স্বাভাবিক | সীমিত |
স্থানীয়দের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল পরিবহন খাত নয়, পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজারে দ্রব্যমূল্যেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির প্রত্যাশায় মানুষ স্বস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা আশা করছেন, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে সড়ক আবার আগের মতো ব্যস্ত ও সচল হয়ে উঠবে।
