জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও পাম্পে বিপর্যয়

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সোমবারও জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য অস্বাভাবিক দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক পাম্পে বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চালকরা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। বিশেষত প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা বিপর্যস্ত।

পাম্পের অবস্থা ও বিক্রির সীমাবদ্ধতা

আজ সকালে মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয়সরণি ও কালশী এলাকার ৯টি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়:

এলাকাপাম্পের নামবিক্রির অবস্থাউপলব্ধ জ্বালানি
মিরপুরস্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডবিক্রি বন্ধ
কল্যাণপুরখালেক ফিলিং স্টেশনবিক্রির অংশ বন্ধশুধুমাত্র সিএনজি
কল্যাণপুরকমফোর্ট ফিলিং অ্যান্ড সিএনজিবিক্রি বন্ধশুধুমাত্র সিএনজি
আসাদগেটতালুকদার ফিলিং স্টেশনবিক্রি চলছেডিজেল ও অকটেন
শেওড়াপাড়াসবুর ফিলিং স্টেশনবিক্রি বন্ধ
শেওড়াপাড়াএ এস ফিলিং স্টেশনঅংশিক বিক্রিশুধুমাত্র ডিজেল
বিজয়সরণিট্রাস্ট পাম্পবিক্রি চলছেডিজেল ও অকটেন
কালশীসুমাত্রা ফিলিং স্টেশনবিক্রি চলছেডিজেল ও অকটেন
মোহাম্মদপুরঅন্যান্য ২টি পাম্পবিক্রি চলছেডিজেল ও অকটেন

স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে দেখা গেছে, সকাল ৯টার সময় পাম্পের প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্ব থেকে প্রাইভেট কার এবং মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। পাম্পের ক্যাশিয়ার আরাফাত স্বপ্নীল জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে এক গাড়িতে ৪,৫০০ লিটার অকটেন পৌঁছেছিল, যা রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। ডিপো থেকে নতুন তেলের গাড়ি না এলে বিক্রি শুরু হবে না।

চালকদের অভিযোগ

মোটরসাইকেল চালক সেলিম মিয়া বলেন, “দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। বিক্রি হচ্ছে না, অন্য পাম্পে যাওয়ার উপায় নেই। রোজা রেখে বাইক ঠেলতে পারছি না।”

প্রাইভেট কার চালক মহসিন হোসেন জানান, “সংকট শুরুর পর আজ প্রথমবার তেল নিচ্ছি। গতকাল লাইনের দীর্ঘতা দেখেও নিতে পারিনি। প্রাইভেট কারের লাইন মণিপুরীপাড়া পর্যন্ত গিয়েছিল।”

লাইন ও সময়

কল্যাণপুরের খালেক ও কমফোর্ট ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র সিএনজি গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিজয়সরণিসংলগ্ন ট্রাস্ট পাম্পে বেলা পৌনে ১১টার সময় প্রাইভেট কারের লাইন দেড় কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনের সারিও দীর্ঘ, প্রাইভেট কারের সারি ইসিবি চত্বর পর্যন্ত দেখা গেছে।

সারসংক্ষেপ

রাজধানীতে তেলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিক্রি বন্ধ এবং বিক্রির অংশিকতা নিয়ে চালকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিপো থেকে তেলের দ্রুত সরবরাহ এবং বিক্রয় প্রক্রিয়ার সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, শুধু সরবরাহ বৃদ্ধি নয়, লাইনের ব্যবস্থাপনা ও সময় নির্ধারণও জরুরি, যাতে চালকরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে না হয়।