জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদে আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের ওপর ইসরায়েল কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ইবাদতকারী, পর্যটক বা স্থানীয় ব্যক্তি পবিত্র মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরান শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের জুমার নামাজ আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কা, ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে জেরুজালেম দখল করার পর থেকে ইসরায়েল এই অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করছে। ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম বলেন, “জেরুজালেমের পুরান শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল, আল আকসা মসজিদ এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার। কোনো ইবাদতকারী বা পর্যটক প্রবেশ করতে পারবে না।”
বন্ধ থাকা পবিত্র স্থানসমূহ
| স্থান | ধর্মীয় সম্প্রদায় | অবস্থা |
|---|---|---|
| আল আকসা মসজিদ | মুসলিম | বন্ধ |
| ওয়েস্টার্ন ওয়াল | ইহুদি | বন্ধ |
| চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার | খ্রিস্টান | বন্ধ |
ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ বিরাজ করছে। আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বন্ধ থাকায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতির আরও জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।
পবিত্র আল আকসা মসজিদ ইসরায়েলি দখলের পূর্বে মুসলিমদের জন্য প্রধান ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে নামাজ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয়। তাই ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও ফেলতে পারে।
স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, কোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজে বাধা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তটি ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানোরও সম্ভাবনা রাখে।
নিরাপত্তার কারণে জুমার নামাজ বাতিলের ঘটনা পবিত্র স্থানের গুরুত্ব, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সংযোগকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর মনোযোগ প্রয়োজন হবে।
