জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন রোববার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনকে কৌশলে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে দলের স্বকীয়তা ও আদর্শগত নীতি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তাজনূভা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার কারণে তিনি এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি শুরু থেকেই গণপরিষদ, নারী ক্ষমতায়ন ও মধ্যপন্থা ভিত্তিক রাজনীতি করতে চেয়েছে। কিন্তু নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে সেই লক্ষ্য এযাবৎ পূর্ণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জোট বিন্যাসের প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত ও সাজানো, যা ন্যূনতম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের সুযোগকে সীমিত করছে। মাত্র কয়েকদিন আগে সমারোহে মনোনয়নের জন্য ১২৫ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে কেবল ৩০ জনকে আসন দেওয়া হয়েছে।
তাজনূভা জাবীন এই প্রক্রিয়াকে “অবিশ্বাস ও অনাস্থার মূল” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি রাজনৈতিক কৌশল নয়; এটা পরিকল্পিত। পুরো জুলাইকে রাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বিএনপি ও জামায়াতের অতীত জোট সম্পর্ককেও উল্লেখ করে বলেন, “যেখানে বিএনপি জামাতের সঙ্গে ১৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত ছিল, সেখানে কেন আমাদের দল স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে জোটে যাবে?”
নিচের টেবিলটিতে প্রকাশ করা হলো এনসিপি থেকে পদত্যাগের আগে মনোনয়ন ও আসন বরাদ্দ সম্পর্কিত তথ্য:
| বিষয় | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মনোনয়নের জন্য ডাকপ্রাপ্ত প্রার্থী | 125 | সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ |
| আসন বরাদ্দ প্রার্থী | 30 | বাকি প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না |
| জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার আসন | 70 | চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ৭০টি আসনে সমঝোতা |
| গণঅভ্যুত্থান দলের আসন | 30 | স্বতন্ত্রভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত |
তাজনূভা জাবীন বলেন, তিনি নিজে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া না থাকায় তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি সমর্থকদের কাছে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের পাঠানো ডোনেশন এক এক করে ফেরত দেব। আপনারা যেভাবে সমর্থন করেছেন, তা আমি কখনো ভুলব না।”
পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জুলাই আন্দোলনের আদর্শ, গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও মধ্যপন্থার রাজনীতির স্থান শূন্য হয়েছে, এবং তিনি ভবিষ্যতে সেই স্থান পূরণে নতুন প্রয়াস চালাবেন।
তাজনূভা জাবীন শেষ করেছেন, “আমি রাজনীতিতে নতুন হলেও, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য আওয়াজ চালিয়ে যাব। মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থি নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি এখন খালি, সেই জায়গা পূরণ করতে আমি থাকব।”
