জীবন বীমা করপোরেশনের এমডি নিযুক্ত হলেন জিয়াউল হক

বাংলাদেশ সরকার দেশের জীবন বীমা খাতে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছে, যা এই প্রাচীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা নির্দেশ করছে। মোহাম্মদ জিয়াউল হক, যিনি আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে জীবন বীমা কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (LICB)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কর্মসংস্থান আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে।

সোমবার, ৭ জানুয়ারি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই নিযুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন দায়িত্বে জিয়াউল হক কর্পোরেশনের সামগ্রিক প্রশাসন, নীতি প্রণয়ন এবং কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

জীবন বীমা কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণির জনগোষ্ঠীর কাছে জীবন বীমা সেবা প্রদান করে এবং জাতীয় আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। LICB গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ক্রমবর্ধমান পলিসিধারক সংখ্যা খাতের সম্প্রসারণে অবদান রাখছে।

জিয়াউল হকের বিস্তৃত সরকারি সেবার অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটিতে দক্ষতা ও গতিশীলতা আনার আশা সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার সময়ে নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রমাণিত দক্ষতা LICB-এর কৌশলগত উন্নয়নে সহায়ক হবে।

LICB-এর প্রধান বিভাগগুলোর কাঠামো এবং মূল দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিভাগমূল দায়িত্বলক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রশাসনিক বিভাগদৈনিক প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিস্বচ্ছতা নিশ্চিত ও দ্রুত সেবা প্রদান
আর্থিক বিভাগবিনিয়োগ ও তহবিল ব্যবস্থাপনানিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ নীতি নিশ্চিত করা
গ্রাহক সেবা বিভাগগ্রাহকের অনুরোধ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনাগ্রাহক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি
নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগনীতি প্রণয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাদীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা

সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, জিয়াউল হকের নেতৃত্বে LICB আরও শক্তিশালী ও প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা জীবন বীমা খাতের উন্নয়ন, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।