রমজানের ইফতারের টেবিলে গরম গরম জিলাপি দেখলেই মন লোভে ভরে ওঠে। সোনালি রঙের, চিনির সিরায় ভেজানো জিলাপি এক কামড়েই মুখে ছড়িয়ে দেয় মিষ্টির স্বাদ। সারাদিন রোজা রাখার পর এই আকর্ষণ সামলানো সত্যিই কঠিন হয়ে ওঠে। অনেকেই দু-এক টুকরায় থামতে পারেন না; কখনো কখনো পুরো প্লেট ভর্তি জিলাপি খেয়ে ফেলা অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু খালি পেটে অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। জিলাপির মতো উচ্চ চিনি ও তেলযুক্ত খাবার বেশি খেলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা রোজার পরবর্তী দিনগুলোকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
Table of Contents
১. রক্তের শর্করার হঠাৎ ওঠানামা
জিলাপিতে থাকে পরিশোধিত ময়দা এবং প্রচুর চিনি। খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায় এবং কিছু সময় পর রক্তে শর্করা দ্রুত কমে যায়।
এর ফলে দেখা দিতে পারে:
দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা
হাত-পা কাঁপা
অতিরিক্ত ক্ষুধা
বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এই অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ।
২. ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা
জিলাপি ডুবো তেলে ভাজা এবং চিনির সিরায় ভেজানো হওয়ায় এটি অত্যন্ত ক্যালরিযুক্ত। একটি মাঝারি জিলাপিতে সাধারণত ১৫০–২০০ ক্যালরি থাকে। ফলে চার-পাঁচটি জিলাপি খেলে সহজেই ৮০০–১০০০ ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে।
| পরিমাণ | প্রায় ক্যালরি | স্বাস্থ্যগত প্রভাব |
|---|---|---|
| ১টি মাঝারি জিলাপি | ১৫০–২০০ | হালকা এনার্জি বৃদ্ধি |
| ৪টি জিলাপি | ৬০০–৮০০ | অতিরিক্ত ক্যালরি, সম্ভাব্য চর্বি জমা |
| ৫টি জিলাপি | ৭৫০–১০০০ | স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি |
রোজার দিনে সারাদিন কম ক্যালরি গ্রহণের পর এত ক্যালরি একসঙ্গে শরীরে ঢুকলে তা অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে।
৩. হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি তেল ও চিনি জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। জিলাপির ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিশোধিত চিনি হজমকে ধীর করে দেয়। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
৪. হৃদস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। নিয়মিত বেশি মিষ্টি খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বেড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
সমাধান ও পরামর্শ
ইফতারে ফল, খেজুর বা পানি দিয়ে শুরু করুন, এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।
জিলাপি পুরোপুরি বাদ দিতে না চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন; একটি ছোট টুকরা যথেষ্ট।
বাড়িতে কম তেল বা স্বাস্থ্যকর বিকল্প মিষ্টি বানানো যেতে পারে।
বাদাম, খেজুর বা ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জিলাপি আনন্দ ও উৎসবের খাবার, প্রতিদিনের নয়। রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে মিষ্টি ও ভাজাপোড়ার প্রতি সংযম দেখানোই সবচেয়ে বড় কৌশল। পরিমিত খাওয়ার অভ্যাসই রোজার মাসটিকে আরও স্বস্তিদায়ক এবং সুস্থ করে তোলে।
