জাহেদ আলী চৌধুরী (১৯৪৭–৪ জানুয়ারি ২০১১) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং শেরপুর-২আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
জাহেদ আলী চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
জাহেদ আলী চৌধুরী ১৯৪৭ সালে শেরপুরের নকলার চর অষ্টাধর ইউনিয়নের চরভাবনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তার পিতার নাম জোনাব আলী চৌধুরী ও মায়ের নাম চৌধুরী ছবরুন্নেছা। তার বড় ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী।
রাজনৈতিক জীবন
জাহেদ আলী চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন।
তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে শেরপুর -২ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে শেরপুর -২ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের হুইপ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও শেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতিও ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে শেরপুর -২ থেকে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।

মৃত্যু
জাহেদ আলী চৌধুরী ৪ জানুয়ারি ২০১১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ