জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক আক্তার হোসেন (৪৫) হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বুধবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এ বিরোধ ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলার মাধ্যমে পরিণতি ঘটে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২২ মে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে সবুজপুর গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়ির কাছের একটি মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেটে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম পরবর্তীতে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সবুজপুর গ্রামের মোতালেব হোসেন এবং রশিদ জামাল। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল লতিফ, সুরুজ মিয়া ও আবদুল হামেদ। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রশিদ জামাল ও অন্যান্য কয়েকজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। মোতালেব হোসেন রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন, তবে অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলার রায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর এই রায় ঘোষণাকে অনেকেই ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| নাম | দণ্ড | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| মোতালেব হোসেন | মৃত্যুদণ্ড | পলাতক |
| রশিদ জামাল | মৃত্যুদণ্ড | আদালতে উপস্থিত |
| আবদুল লতিফ | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | আদালতে উপস্থিত |
| সুরুজ মিয়া | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | আদালতে উপস্থিত |
| আবদুল হামেদ | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | আদালতে উপস্থিত |
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দিদারুল ইসলাম জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত হয় যে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের এই রায় সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে তারা আশা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও রায় ঘোষণার মাধ্যমে নিহত কৃষকের পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। তবে এলাকায় এখনো কিছুটা উত্তেজনা ও সতর্কতা বিরাজ করছে।
