জামালপুরে কালোবাজারে পেট্রলসহ আটক সাতজন

জামালপুর সদর উপজেলায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পেট্রল নিয়ে যাওয়ার সময় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কালিবাড়ি বাজার এলাকায় পুলিশি অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট পেট্রলের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার লিটার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে একটি পিকআপ, একটি ভ্যান ও একটি অটোরিকশায় ১৫টি তেলের ড্রাম বহন করে সন্দেহজনক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা গাড়িগুলো থামিয়ে তল্লাশি চালান। তল্লাশির পর গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ পেট্রল এবং সাতজনকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায় এবং তেল জব্দ করে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

নামবয়সউপজেলা/জেলা
হাকিম মিয়া৪০মেলান্দহ
মো. মারুফ হোসেন২৪মেলান্দহ
হাফিজুর রহমান৪০সদর
ফুল মিয়া৩৮সারিয়াকান্দি, বগুড়া
মহিনর হোসেনসারিয়াকান্দি, বগুড়া
মো. শাহ জামাল৫০মাদারগঞ্জ
মো. জুগলু মিয়া৪৪সরিষাবাড়ী
মো. জরুরুল ইসলাম৪৫সরিষাবাড়ী

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “এ ঘটনায় স্থানীয়রা সাতজনকে আটক করে পুলিশে খবর দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে এসেছে। জব্দকৃত পেট্রলের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার লিটার। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, কালোবাজারে পেট্রলের অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে বড় বড় বাজার ও প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ তেল সরবরাহ রোধে রুট চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলছেন, “অবৈধ পেট্রল বিক্রির মাধ্যমে জনগণকে বিপদে ফেলা হচ্ছিল। আমরা সকলে মিলে তাদের আটক করেছি।” পুলিশের মতে, এই অভিযান থেকে শিখনীয় বিষয় হলো, স্থানীয় জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া অবৈধ ব্যবসা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়।

এছাড়া পুলিশ জব্দকৃত পেট্রল মজুত করার সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকলে এলাকার অবৈধ তেল চক্রে ক্ষতি হবে এবং নিরাপত্তা বেড়ে যাবে।

মোটের ওপর, জামালপুরে এই অভিযানটি স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের যৌথ উদ্যোগের সফল উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে।