আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিলেও দেশের জনগণের সমর্থন পাবে না এবং সংসদীয় রাজনীতিতে তারা একটি আসনও লাভ করতে সক্ষম হবে না। শনিবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দায় ইসলামী যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শানে রেসালাত মহা সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের ধর্মতাত্ত্বিক ও আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জামায়াতের প্রচারিত ইসলামের সাথে মূলধারার ইসলামের মৌলিক সংঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ইসলাম ও মওদুদীর প্রবর্তিত ইসলাম এক নয়। মদিনার ইসলামই প্রকৃত ইসলাম; জামায়াতের ইসলাম প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না।” তিনি মনে করেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ মওদুদীবাদী দর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সম্প্রতি গঠিত ৮ ইসলামী দলের নির্বাচনী সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই জোট কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির একটি মাধ্যম। নিচেই তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
হেফাজত আমিরের বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য
| আলোচনার বিষয় | আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর অবস্থান |
| নির্বাচনী ভবিষ্যৎ | জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে কোনো আসন পাবে না বলে দৃঢ় ভবিষ্যদ্বাণী। |
| আদর্শিক সংঘাত | মওদুদীবাদকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা। |
| মদিনার ইসলাম | মদিনার মূল ইসলামকেই একমাত্র সঠিক পথ হিসেবে ঘোষণা। |
| জোটের উদ্দেশ্য | ৮ দলীয় ইসলামী জোটকে কেবল ভোট ও আসনের স্বার্থে গঠিত ‘সুবিধাবাদী’ জোট হিসেবে অভিহিত। |
| নেতৃত্বের বার্তা | আলেম সমাজকে রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে আদর্শ বিসর্জন না দেওয়ার আহ্বান। |
সম্মেলনে উপস্থিত উলামায়ে কেরামগণও ইসলামের প্রচার-প্রসার ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা খলিল আহমেদ কোরাইশী, ফরিদপুরের সামসুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মুফতি কামরুজ্জামান, নগরকান্দার মুফতি ইসমাতউল্লাহ কাসেমী এবং পুরুরা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নিজামুদ্দিনসহ প্রখ্যাত আলেমগণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজত আমিরের এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কওমি ঘরানার আলেমদের বড় একটি অংশ যখন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন হেফাজত আমিরের এমন কড়া অবস্থান জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্মেলন শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
