নরসিংদী সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচর বাসস্ট্যান্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভার পর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি ও নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী আমজাদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, হামলায় অন্তত ৪০ জন জড়িত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন এবং যুবদলের নেতা ইফতিখার আলমও রয়েছেন। প্রার্থী আরও দাবি করেছেন, সভার সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী মঞ্চে গালাগালি করেছেন এবং সভা শেষে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে অনেককে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির জানিয়েছেন, মোট ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩ জন কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বিএনপির স্থানীয় সভাপতি আবদুর রশিদ মিয়া হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উল্টো জামায়াতের হামলায় তাঁদের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আহতদের তথ্য নিম্নের টেবিলে সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ক্রমিক | বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|---|
| ১ | স্থান | মেহেরপাড়া ইউনিয়ন, শেখেরচর বাসস্ট্যান্ড, নরসিংদী সদর |
| ২ | ঘটনা | জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভা শেষে হামলা |
| ৩ | মোট আহত | ৩০ জন |
| ৪ | হাসপাতালে ভর্তি | ১৪ জন (৭ জন ঢাকায় প্রেরণ) |
| ৫ | নিখোঁজ | ৩ জন কর্মী |
| ৬ | হামলায় জড়িত | অন্তত ৪০ জন (জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী) |
| ৭ | রাজনৈতিক পক্ষ | জামায়াত, বিএনপি, স্থানীয় তাঁতী দল |
| ৮ | পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনার তদন্ত চলছে |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও সম্পূর্ণভাবে কমেনি। এই সংঘর্ষ স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করেছে এবং ভোটপর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।
