জাপানি সাংবাদিককে ইরান থেকে মুক্তির প্রস্তাব

ইরানে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক থাকা জাপানি নাগরিক শিনোসুকে কাওয়াশিমার দ্রুত মুক্তির জন্য জাপান সরকার বুধবার তীব্রভাবে দাবি জানিয়েছে। তবে সরকারের তরফ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বা আটককারণের কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

উপপ্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাসানাও ওজাকি সাংবাদিকদের জানান, কাওয়াশিমাকে ২০ জানুয়ারি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটক করে। তিনি আরও বলেন, সরকার তার পরিবার ও ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার অন্য কোনো বিবরণ জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কাওয়াশিমা জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর তেহরান ব্যুরো প্রধান ছিলেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রেডিও ফ্রি ইউরোপ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে তেহরানের একটি কারাগারে স্থানান্তর করেছে। এনএইচকে যদিও তার আটক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, তবে এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এনএইচকে সবসময় কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এ পর্যায়ে আমরা কিছু বলার অবস্থায় নেই।”

কাওয়াশিমার পেশাগত জীবনেও নজর দেওয়া যায়। তিনি ২০১৭ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এনএইচকে ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০০৫ সালে এনএইচকে-তে যোগদান করেন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।

নিচের টেবিলে শিনোসুকে কাওয়াশিমার পেশাগত ও আটক সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
নামশিনোসুকে কাওয়াশিমা
জাতীয়তাজাপানি
প্রতিষ্ঠানের নামএনএইচকে (NHK)
বর্তমান পদতেহরান ব্যুরো প্রধান
আন্তর্জাতিক দায়িত্বসংবাদদাতা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক
এনএইচকে-তে যোগদানের বছর২০০৫
জাকার্তা ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত২০১৭ থেকে
আটক তারিখ২০ জানুয়ারি ২০২৬
আটক স্থানতেহরান, ইরান
সরকারের অবস্থানমুক্তির দ্রুত দাবি, পরিবার ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ

জাপান সরকার আশা প্রকাশ করেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ন্যায্য ও মানবিকভাবে শিনোসুকে কাওয়াশিমার মুক্তি দেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরেও এই ঘটনা এসেছে, যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ক আলোচনাকে পুনরায় উজ্জীবিত করেছে।

শিনোসুকে কাওয়াশিমার এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে, কারণ ইরানে বিদেশী সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি ও আটক হওয়া নতুন ঘটনা নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনায় তৎপরতা দেখাচ্ছে এবং জাপান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান দাবি করছে।